ওঙ্কার ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে একাধিক হোয়াইট কলার পেশাজীবীর নাম উঠে আসছে। এই অভিযানে মোট আটজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনজন ডাক্তার রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা শুধুমাত্র চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রেই ছিলেন না, বরং একটা আন্তঃরাষ্ট্র এবং আন্তঃদেশব্যাপী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন যাকে “হোয়াইট-কলার টেরর” হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশি সুত্রে খবর এই মডিউল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুইসাডার বম্বার বা আত্মঘাতী বোমারু খুঁজছিল। শেষ অবধি তা ঠিক করতে না পারায় মূল অভিযুক্ত ওমার নবি সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় এবং ১১ নভেম্বর রাজধানীতে বিস্ফোরণ ঘটায়।
তদন্তকারীদের মতে, এই মডিউল পাকিস্তান সরকারের মতদপুষ্ট জঙ্গী সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গজওয়াতে-উল-হিন্দ এর সাথে গভীর সংযোগে ছিল। তদন্তকারীদের মতে, এই সুইসাইড বম্বার খোঁজার অভিযান শুরু হয়েছিল অক্টোবর মাসে শ্রীনগারে কিছু জইশ পোস্টারের মাধ্যমে। যে পোষ্টে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হুমকি এবং উতক্ষিপ্ত বার্তা ছিল। সেখান থেকেই পুলিশের অনুসন্ধান আরও গভীর হয়ে ওঠে এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, হারিয়ানা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সমন্বয়ে তদন্ত শুরু করে।
দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডের পর ফরিদাবাদে আল ফালহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবাসন থেকে প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উপকরণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, জ্বলনশীল রাসায়নিক উপাদান, টাইমার, তার, ব্যাটারি, রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস এমন সব যন্ত্রাংশ যা আইইডি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি, অস্ত্র শক্তিও ছিল বিভিন্ন রাইফেল, পিস্তল এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এসব ডাক্তার শুধুমাত্র অস্ত্র সংগ্রহেই যুক্ত ছিল না, তারা তথ্য আদান-প্রদানে, অর্থ লেনদেনে এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ করে সন্ত্রাসী কাঠামোর ভিত্তি গড়ার কাজ করছিলেন। অনেক সময় তারা সামাজিক কাজ নামে অর্থ সংগ্রহ করতেন।
