ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজধানী। মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর একের কাছাকাছি একটি গাড়িতে হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি গাড়িতে। প্রচণ্ড শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে চারদিক ছুটোছুটি শুরু হয়। ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর জখম বহু মানুষ। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের আগে একটি সাদা রঙের গাড়ি রেড ফোর্টের দিকে ধীরে ধীরে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই তীব্র শব্দে সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশেপাশের দোকানগুলির কাচ ভেঙে যায়, দগ্ধ হয় পথের ধারে থাকা যানবাহনও। ঘটনাস্থলে মুহূর্তের মধ্যেই পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশ ও দমকল বাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বম্ব স্কোয়াড। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে গাড়িটির ইঞ্জিন সম্পূর্ণভাবে ছিটকে পড়ে যায় প্রায় কুড়ি মিটার দূরে।
ঘটনা নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। টুইট করে তিনি বলেছেন, “যারা এই জঘন্য হামলার পিছনে রয়েছে, তাঁদের কোনও ভাবেই রেহাই করা হবে না। দেশবিরোধী শক্তিকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখাকেও তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে এটি সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাই এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ইউএপিএ আইন অনুযায়ী। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এনআইএ-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে বিস্ফোরকের ধরন শনাক্ত করতে।
দেশজুড়ে এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, মেট্রো নেটওয়ার্ক এবং জনবহুল এলাকাগুলিতে মোতায়েন হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সীমান্তবর্তী রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার সূত্র খুঁজতে পার্শ্ববর্তী ফরিদাবাদ এলাকায়ও চলছে তল্লাশি অভিযান।
এদিকে, ঘটনার পর রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। লাল কেল্লা ও এর আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় এলাকায় থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, “আমরা হঠাৎই প্রচণ্ড আওয়াজ শুনি, তারপরই দেখি আগুন আর ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে চারপাশ।”
এই বিস্ফোরণের পর গোটা দিল্লিতে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত উদ্বেগের পরিবেশ। প্রশাসন একদিকে যেমন তদন্তে তৎপর, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
