ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী এক মাসের জন্য দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমস্ত ধরণের বিক্ষোভ কর্মসূচি, সভা এবং মিছিল নিষিদ্ধ করা হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মনোজ কুমার মঙ্গলবার এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। এটি যেমন পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনই ফ্যাকাল্টি মেম্বার এবং কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে অনিয়ন্ত্রিত সমাবেশের ফলে যানজট, সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, অতীতে আয়োজকরা প্রায়শই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির কথাও উল্লেখ করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভ আয়োজিত হয়। সেখানে এক মহিলা সাংবাদিক এবং এক কন্টেন্ট নির্মাতার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। যে ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উত্তর দিল্লির ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নোটিশ দিয়েছিল। তার কয়েক দিন যেতে না যেতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন পড়ুয়া এবং আধিকারিকদের একাংশ। এক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সদস্য বলেন, এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক ভিন্ন মতের উপর দমন-পীড়নের সামিল। তিনি বলেন, ‘এই বিজ্ঞপ্তি মেনে নিতে পারছি না। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলির ভুল নীতির বিরুদ্ধে সমস্ত প্রতিবাদ এবং আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হতে হবে এবং এটি নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য। তবে, ‘যান চলাচলে বাধা’ দেওয়ার নামে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া যায় না।’
