ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের এক পরিযায়ী শ্রমিকের পচাগলা দেহ ছত্তিসগড়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম সুকুমার কিস্কু। বয়স ৩৩ বছর। কর্মসূত্রে ছত্তিসগড়ে থাকা সুকুমার আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। বেশ কিছুদিন তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত জঙ্গলের ভিতর থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধারের খবর আসে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবিকার তাগিদে সুকুমার ভিন্রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। দুর্গাপুরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকলেও কর্মস্থলে থাকার কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হত। অন্যান্য পরিযায়ী শ্রমিকের মতোই পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলানোর জন্যই তিনি ভিন্রাজ্যে গিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু আচমকাই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মতো করে তাঁর খোঁজ শুরু করেন। পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর কর্মস্থলেও খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু কোথাও সুকুমারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নজরে আনা হয়। এরপর নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়। এর মধ্যেই ছত্তিসগড়ে একটি জঙ্গলে এক ব্যক্তির পচাগলা দেহ পড়ে থাকার খবর পায় স্থানীয় পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করা হয়। দেহের অবস্থা এমন ছিল যে, প্রাথমিক ভাবে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন তথ্য ও পরিবারের দেওয়া বিবরণের ভিত্তিতে দেহটি সুকুমার কিস্কুর বলে শনাক্ত করা হয়।
দেহ উদ্ধারের পর থেকেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। সাধারণত কর্মস্থল থেকে দূরে থাকা কোনও পরিযায়ী শ্রমিকের নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর দেহ যদি কোনও নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা অথবা অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনা সামনে আসে। তদন্তকারীরাও কোনও একটি সম্ভাবনাকে এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নিচ্ছেন না।