ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম শহিদুল মণ্ডল এবং অনুপ খাঁ। তাঁদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং দু’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর বনগাঁ থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে শহিদুল ও অনুপকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার পর দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া পিস্তল ও ম্যাগাজিনগুলি বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, অস্ত্র পাচারের কারবারে দু’জনের আলাদা ভূমিকা ছিল। বনগাঁ থানার বাজিতলা এলাকার বাসিন্দা শহিদুল বাইরে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে গোপন জায়গায় মজুত করতেন বলে অভিযোগ। এরপর সেই অস্ত্র নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল অনুপের উপর। বাংলাদেশ-সহ সীমান্তের ওপারে থাকা দুষ্কৃতীদের কাছে এই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হত বলে পুলিশের দাবি। জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে বলে সূত্রের খবর, সম্প্রতি বাংলাদেশের এক দুষ্কৃতীর কাছে অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে অনুপের যোগাযোগ ছিল। উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম পিস্তলটিও বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অস্ত্রের সম্ভাব্য ক্রেতা কে ছিল এবং সীমান্তের কোন পথ ব্যবহার করে তা পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেই তথ্যও জানার চেষ্টা চলছে।
এই চক্রের অস্ত্রের উৎস নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। কোথা থেকে পিস্তলটি সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার মাধ্যমে সেটি বনগাঁয় পৌঁছেছিল এবং এর পিছনে আরও কোনও অস্ত্র সরবরাহকারী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ধৃত দু’জন হয়তো গোটা চক্রের সামনের সারির সদস্য মাত্র। তাঁদের পিছনে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে। ধৃতদের পূর্ব অপরাধের রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। বিশেষ করে অনুপের বিরুদ্ধে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে আগে মামলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পেট্রাপোল, বনগাঁ এবং সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সংস্থার হাতে অতীতে তিনি ধরা পড়েছিলেন কি না, সেই তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।