ওঙ্কার ডেস্ক: ‘বিদায় নেওয়ার সময় এখন’, গাজিয়াবাদে হরিশ রানাকে শেষ বার্তা পরিবারের। সুপ্রিম কোর্ট দেশের ইতিহাসে প্রথম প্যাসিভ ইউথানেশিয়া অনুমোদন দিয়েছে। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ আদালত হরিশের লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পক্ষে সায় দিয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার আগে পরিবারের এই বিদায় মনকে নাড়া দিয়েছে নেটিজেনদের।
সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ২২ সেকেন্ডের হৃদয়বিদারক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হরিশের মা তাঁর কাছে বসে রয়েছেন। ব্রহ্মকুমারী সম্প্রদায়ের এক তরুণী তাঁর কপালে ‘তিলক’ লাগিয়ে দিচ্ছেন। ওই হরিশের মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি বলেন, ‘সকলকে ক্ষমা করে দাও। এখন যাওয়ার সময় হয়েছে, কেমন?’ উল্লেখ্য, হরিশ রানার পরিবারের সঙ্গে ব্রহ্মকুমারী সম্প্রদায়ের যোগসূত্র রয়েছে। এটি একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। হরিশের স্বেচ্ছামৃত্যুর পক্ষে লড়াইয়েও পরিবারকে সহায়তা করেছিল।
২০১৩ সালে হরিশ রানা চার তলা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর চোট পান। তারপর থেকে, তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। হরিশ রানার শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ট্র্যাকিওস্টোমি টিউব এবং খাওয়ানোর জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টোমি টিউব দিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে শয্যাশায়ী রয়েছেন তিনি। তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। আর সে কারণে হরিশ রানার পরিবার তার জন্য স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন। যা সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করে। প্রসঙ্গত, ভারতে এই প্রথম কাউকে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া দেওয়া হল। হরিশ রানার জন্য যুগান্তকারী রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ তাঁর বাবা-মায়ের প্রশংসা করে। আদালত মন্তব্য করে, ‘কাউকে ভালোবাসা মানে কেবল আনন্দের সময়েই নয়, বরং তাদের সবচেয়ে দুঃখজনক এবং অন্ধকার সময়েও যত্ন নেওয়া।’
