ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চাপ কমাতে এবং সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি বোঝা এড়াতে তিনি একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম, স্কুলগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ক্লাস চালুর ভাবনা।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় কমানো অত্যন্ত প্রয়োজন। স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াত, অভিভাবকদের পরিবহণ এবং স্কুলবাসের ব্যবহার মিলিয়ে যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ হয়, তা সাময়িকভাবে অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে অনেকটাই কমানো সম্ভব। ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ায় প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পঠন-পাঠন চালাতে পারে বলেই মত প্রধানমন্ত্রীর।
শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রেও বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি আরও বেশি করে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অফিসে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানো গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজট এবং দূষণও হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা, কারপুলিং বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার প্রসারের উপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার সরাসরি প্রভাব দেশের জ্বালানি খরচ, পরিবহণ ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উপর পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কথাও উল্লেখ করেছেন। বিলাসবহুল খরচ, বিদেশ সফর কিংবা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার পরিবর্তে প্রয়োজনভিত্তিক ব্যয়ের উপর জোর দিতে বলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থে প্রত্যেক নাগরিকের ছোট ছোট সাশ্রয়ও বড় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল শিক্ষা ও রিমোট ওয়ার্কের সীমিত প্রয়োগ সাময়িকভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প শক্তির ব্যবহার, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্র যে এখন থেকেই বহুমুখী পরিকল্পনার পথে হাঁটছে, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট।