ওঙ্কার ডেস্ক: অসমে ফের তৃতীয়বারের জন্য শপথ নিতে চলেছে বিজেপির এন ডি এ সরকার। দ্বিতীয়বারের জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। ১২ মে বেলা ১১ টায় অসমের গুয়াহাটির খানাপাড়া খেলার মাঠে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নেবেন তিনি। রবিবার বিধায়ক দলের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি। বৈঠকে বিজেপি বিধায়কদের পাশাপাশি শরিক দল আসাম গণ পরিষদ এবং বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট হিমন্ত বিশ্ব সার্মার নাম সমর্থন করে। এর পরেই সার্মা রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সরকার গঠনের দাবি পেশ করেন। উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী গত ৬ মে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে অসমের মোট আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এনডিএ জোট। বিজেপি একাই জিতেছে ৮২টি আসনে। শরিক দল অসম গণ পরিষদ এবং বড়ল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট পেয়েছে ১০টি করে আসন। অন্যদিকে কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ১৯টি। শুধু হেমন্ত ই শপথ নেবেন না তাঁর সঙ্গে শপথ নেবেন আরও ৪ জন মন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন বাংলার নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অসম গণ পরিষদের সভাপতি অতুল বোরাও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। বোকাখাত কেন্দ্র থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এর আগে কৃষি, পশুপালন, নগরোন্নয়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন অতুল বরা। বড়ল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক চরণ বোরো আবারও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন। ২০১৬ সাল থেকে মাজবাট কেন্দ্রের বিধায়ক তিনি। চলতি নির্বাচনে ৫৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পেয়েছেন। এছাড়া শপথ নিতে চলেছেন অসমের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী অজন্তা নিয়োগ। টানা পাঁচবার গোলাঘাট কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। এবারও বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন বিজেপির এই প্রবীণ নেত্রী। এদিকে বিধানসভার স্পিকার পদে এনডিএর প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপি নেতা রঞ্জিত কুমার দাস-কে। ২০১৬ সালে এনডিএ সরকার গঠনের সময়ও স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এই শপথ গ্রহণে উপস্থিত থাকতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।