ওঙ্কার ডেস্ক: বাবা বিশাল সম্পত্তির মালিক। সবটাই লিখে দিতে হবে মদ্যপ বড় ছেলেকে। এই নিয়ে শুরু বচসা। ছেলে নিখিল খবার টেবিলেই মা এবং ছোট ভাইয়ের সামনেই ৬ রাউন্ড গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় ৫২ বছরের বাবাকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হরিওম চৌধুরী নামের ঐ ব্যাক্তির। বাবাকে খুন করে পলাতক ছেলে নিখিল। তাঁকে খোঁজার জন্য সিট গঠন করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম হরিওম চৌধুরী (৫২)। তিনি এলাকার এক বিত্তশালী কৃষক ও জমির মালিক ছিলেন। তাঁর মালিকানায় প্রায় ৭৫ বিঘা কৃষিজমি, দিল্লি-মিরাট রোডের ধারে একটি বাজার-সহ বিপুল সম্পত্তি ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। ঘটনার রাতে অভিযুক্ত ছেলে নিখিল মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে। এরপর বাবার সঙ্গে তার বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সে সম্পত্তির কাগজপত্র নিজের নামে হস্তান্তরের দাবি জানায়। কিন্তু হরিওম চৌধুরী সেই দাবি মানতে অস্বীকার করেন। কারণ, ছেলের মদ্যপানের অভ্যাসের জন্য তিনি বাকি সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে রাজি ছিলেন না। যদিও এর আগেই ছেলেকে ২৫ বিঘা জমি এবং কয়েকটি দোকান দিয়ে দিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বচসা ক্রমশ তীব্র আকার নিলে নিখিল আগ্নেয়াস্ত্র বের করে বাবাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হরিওম চৌধুরীর। ঘটনার পর অভিযুক্ত অস্ত্র নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পরিবারে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। সেই বিবাদেরই পরিণতি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে।