ওঙ্কার ডেস্কঃ যন্তর মন্তরে অনশনরত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। অনশনের জেরে তিনি সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। যদিও সরকারের তরফ থেকে কোনোও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতটাই ওজন কমে গিয়েছে যে শরীরের হাড় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এমনকি শৌচাগারে যাওয়ার সময় দু’বার পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল তাঁর।
অভিজিৎ দীপকে আরও জানান, তিনি নিজে ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ওয়াংচুক সেই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে অনশন ভাঙতে বলার পরিবর্তে কেন সরকার আন্দোলনের দাবি শুনছে না, সেই প্রশ্ন তোলা উচিত।
অনশনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়তেই বিষয়টি পৌঁছেছে দিল্লি হাইকোর্টেও। কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ওয়াংচুকের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সরকারের কোনও আপত্তি নেই।
ওয়াংচুকের চিকিৎসক ডা সতীশ লাম্বা জানিয়েছেন, গত ২৮ জুন অনশন শুরু করার পর থেকে তাঁর ওজন 9 কিলোগ্রামেরও বেশি কমেছে। বর্তমানে তাঁর ওজন ৫৬.৯ কিলোগ্রাম। চিকিৎসকের কথায়, দীর্ঘ অনশনের ফলে শরীর প্রথমে সঞ্চিত শর্করা, তারপর চর্বি এবং এখন পেশি থেকে শক্তি সংগ্রহ করছে। শরীরে কিটোনের মাত্রা বেড়েছে এবং ইউরিক অ্যাসিডও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত চব্বিশ ঘণ্টাই তাঁর উপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই তাঁরা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদনও জানিয়েছেন।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনও বাড়ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারের উচিত ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনায় বসা। অন্যদিকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল যন্তর মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন এবং আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। তাঁর বক্তব্য, প্রতি বছর প্রশ্নফাঁসের কারণে দেশের ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত তাঁদের দাবি শোনা। পাশাপাশি তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানান।