ওঙ্কার ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলায় স্বামীকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রেমিকের সাহায্যে খুন করানোর অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী, তাঁর প্রেমিক এবং আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত যুবকের নাম রমেশ। তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার বাসিন্দা রমেশের সঙ্গে প্রায় দু’বছর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের শান্তিপুরম এলাকার বাসিন্দা হাসিনির বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ছোট্ট কন্যাসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পরও হাসিনি তাঁর শৈশবের বন্ধু যুগন্ধরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং দু’জনে একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা করতে গিয়ে রমেশকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী অমাবস্যার পুজোর অজুহাতে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চিত্তুর জেলার গুদুপল্লে মণ্ডলের শ্রী মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে যাওয়ার কথা বলেন হাসিনি। পথে যাওয়ার সময় তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমিক যুগন্ধরকে তাঁদের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠাতে থাকেন, যাতে অভিযুক্তরা সহজেই তাঁদের গতিবিধি নজরে রাখতে পারে। মন্দিরের কাছে পৌঁছনোর পর পূর্বনির্ধারিত সংকেত হিসেবে নিজের হ্যান্ডব্যাগ একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দেন হাসিনি। সেই সংকেত পাওয়ার পরই যুগন্ধর এবং তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে রমেশের উপর হামলা চালায়। একের পর এক কোপে গুরুতর জখম হন রমেশ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। পুরো ঘটনার সময় তাঁদের ছোট্ট সন্তানও ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে অন্য খাতে চালিত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে এটি অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হামলা বলে দাবি করা হলেও তদন্তে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, লাইভ লোকেশন শেয়ারের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে। তদন্তে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি আকস্মিক হামলা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ হাসিনিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রেমিক যুগন্ধর এবং তার সহযোগীদেরও গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, বহুদিন ধরেই এই হত্যার ছক কষা হচ্ছিল এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়টিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।