স্পোর্টস ডেস্ক ; গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোয়ে রুপো পেলেন ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা নীরজ চোপড়া। আট বছর পর কমনওয়েলথ গেমসে যোগ দিয়ে সোনা জিততে পারলেন না এই তারকা। তিনি ৮৫.৮৩ মিটার থ্রো করে রুপো পেলেন। সোনা জিতলেন শ্রীলঙ্কার অ্যাথলিট রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগে । তিনি ৮৯.৭৫ মিটার থ্রো করেন। নীরজ অনেক চেষ্টা করেও শ্রীলঙ্কার অ্যাথলিটের এই থ্রোয়ের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেননি। এই ইভেন্টে নীরজের পাশাপাশি পদক পেলেন আরও এক ভারতীয় অ্যাথলিট। ৮৫.৪১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ পেলেন যশ বীর সিং। এই অ্যাথলিট ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স দেখালেন। যে কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একই ইভেন্টে দুই ভারতীয় ক্রীড়াবিদের পদক পাওয়ার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। ভারত সোনা না পেলেও, রুপো ও ব্রোঞ্জ পাওয়া নেহাত কম কৃতিত্বের বিষয় নয়কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিততে না পেরে কিছুটা হতাশ নীরজ। তিনি জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নিলেও, মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা গেল না। ইভেন্ট শেষ হওয়ার পর কোচ জয় চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলছিলেন নীরজ। তাঁকে বাহবা জানান কোচ। চোট সারিয়ে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে ফিরে লড়াই করলেন নীরজ। তাঁকে সোনা জিততে হলে ৯০ মিটারের গণ্ডি স্পর্শ করতে হত। সেটা পারলেন না এই অ্যাথলিট।ভারতেরই যশ ভির সিং শেষ প্রচেষ্টায় ব্যক্তিগত সেরা ৮৫.৪১ মিটার ছুড়ে ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের জন্য ডাবল পডিয়াম নিশ্চিত করেন। তবে নীরজের কাছে এই রুপোর পদক শুধু একটি সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের পর চোট থেকে ফিরে এসে পদক জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে কোমরের নীচের অংশের চোটে ভুগছিলেন তিনি। সেই কারণেই দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতার বাইরে থাকতে হয়েছিল। জুন মাসে দোহা ডায়মন্ড লিগে প্রতিযোগিতায় ফিরলেও এখনও পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাননি বলেই জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিযোগিতা শেষে নীরজ বলেন, ‘আমার কামব্যাক এবং রিহ্যাব ভালই হচ্ছে। আমি ঠান্ডার মধ্যে খুব একটা ভাল পারফর্ম করতে পারি না, শেষ পর্যন্ত আমি ভারতীয়ই। তবে আবার পোডিয়ামে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ধীরে ধীরে পরিশ্রমের ফল পাচ্ছি।’
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের শরীরের ওপর আবার ভরসা করতে শেখা। সেই প্রসঙ্গে নীরজ বলেন, ‘আমি এখনও পুরোপুরি ফিট নই। চোট থাকলে মনে ভয় কাজ করে। আজও রান-আপ শুরু করার সময় ভয় পাচ্ছিলাম। খুব জোরে দৌড়াতে চাইনি। শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই থ্রো করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত থ্রো ভাল হয়েছে।’
প্রতিযোগিতায় নীরজের রান-আপেও সতর্কতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। সাধারণত যেভাবে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দৌড় শুরু করেন, এদিন তা দেখা যায়নি। বরং শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকেই বেশি নজর দিয়েছিলেন তিনি। তবে ভারতীয় তারকার বিশ্বাস, আগামী দিনে আরও উন্নতি হবে। সামনে রয়েছে ডায়মন্ড লিগ এবং এশিয়ান গেমস। সেই লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে নিজের পুরনো ছন্দে ফিরতে চান তিনি।