ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণের পর সারা দেশের মতো অযোধ্যাতেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানীর বুকের ওই ভয়াবহ ঘটনার তদন্তে জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের নাম উঠে আসছে। সেকারনে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। রাম মন্দিরকে ঘিরে আগেই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় ছিল, এখন সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করা হয়েছে। অযোধ্যা শহরজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, পুলিশের টহলদারি বেড়েছে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায়।
রাম মন্দির ট্রাস্ট ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ও মেটাল স্ক্যানার। ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের স্নাইপার দল পাহারায় রয়েছে ছাদের উপর। প্রতিটি দর্শনার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা যাচাই। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত ইনপুট অনুযায়ী অযোধ্যাকে ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ বছরের এপ্রিল মাসেই রাম মন্দির ট্রাস্টের দপ্তরে একটি বোমা হামলার হুমকিসূচক ই-মেল আসে, যা নিয়ে তখনও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই অযোধ্যায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বল মোতায়েন করা হয়েছিল। দিল্লি বিস্ফোরণের পর প্রশাসন নতুন করে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, কোনও রকম আতঙ্ক সৃষ্টি না করেই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনও সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি যা অযোধ্যা মন্দির বা উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে যুক্ত। তবুও তদন্তকারীরা সম্ভাব্য জঙ্গি সংগঠনগুলির নড়াচড়া ও যোগাযোগের ধারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এমন প্রতীকী ধর্মীয় স্থাপনাগুলি সব সময়ই জঙ্গিদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাই দিল্লির মতো জাতীয় রাজধানীতে এমন বড়সড় বিস্ফোরণের পর অযোধ্যায় নিরাপত্তা আরও কঠোর হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক পদক্ষেপ।
এ মুহূর্তে রাম মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করছেন। সেই ভিড় সামলাতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে। মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বারে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের উপস্থিতি, গঠন করা হয়েছে বিশেষ র্যারপিড রেসপন্স টিম। প্রতিটি গাড়ি ও ব্যাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রে।
অযোধ্যার এসপি বলরামচারি দুবে জানিয়েছেন, “দিল্লির বিস্ফোরণের সতর্কবার্তার পর থেকেই গোটা মন্দিরের নিরাপত্তা খুবই কঠোর ভাবে করা হচ্ছে। পুলিশের নানা দল কাজে নেমে পরেছে। সাধারণ পোষাকে পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছে মন্দির এবং তার আশেপাশের এলাকায়”। তিনি আরও জানান, “দর্শনার্থীদের ব্যাগ থেকে শুরু করে তাঁদের তল্লাশি নেওয়া হচ্ছে। কারো ব্যাগ থেকে যদি সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে তাঁদের আলাদা করে জেরা করা হচ্ছে”।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকে গোটা ব্যবস্থাই আরও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য মেলেনি, তবুও প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই অযোধ্যা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।
