ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তিতে বেসরকারি উদ্যোগের হাত ধরে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে। আহমেদাবাদের একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের নির্মিত পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহের মাধ্যমে কক্ষপথে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সফল ছবি তুলে নতুন নজির স্থাপন করেছে। এই সাফল্যের ফলে ভারত এখন মহাকাশে ভেসে থাকা অন্যান্য উপগ্রহ বা বস্তু শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতে কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংস্থার ৮০ কিলোগ্রাম ওজনের ছোট আকারের উপগ্রহটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ট্র্যাক করে। প্রথমে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং পরে আরও কাছাকাছি দূরত্ব থেকে উন্নত ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সেন্সরের সাহায্যে স্পষ্ট ছবি তোলা হয়। পরীক্ষার সময় মোট ১৫টি ফ্রেম সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রায় ২ মিটার রেজোলিউশনে লক্ষ্যবস্তুর গঠন শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ ইমেজিং সাফল্য নয়, বরং ‘নন-আর্থ ইমেজিং’ বা পৃথিবীর বাইরে থাকা বস্তুর ছবি তোলার ক্ষমতার প্রদর্শন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্য দেশের উপগ্রহের গতিবিধি নজরদারি, মহাকাশে ভেসে থাকা ধ্বংসাবশেষ শনাক্তকরণ, এমনকি সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। ক্রমবর্ধমান মহাকাশ কার্যকলাপের যুগে এই ধরনের ‘স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস’ প্রযুক্তি যে কোনও দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ভারতের হাতে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ, আবহাওয়া পূর্বাভাস, ন্যাভিগেশন ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বহু উপগ্রহ রয়েছে। সেগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্ষপথে কী ঘটছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অত্যাবশ্যক। নতুন এই সক্ষমতা দেশকে নিজেদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থান নিতে সহায়তা করবে।
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, এই সাফল্য সরকারি মহাকাশ সংস্থার বাইরে একটি বেসরকারি সংস্থার হাত ধরে এসেছে। ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পও এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়নে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের মহাকাশ গবেষণা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করবে।
