ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রভাব যে শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা স্পষ্ট করে তুলে ধরল ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহানের সাম্প্রতিক মন্তব্য। পুনেতে অনুষ্ঠিত এক নীতি সংক্রান্ত আলোচনাসভায় তিনি জানান, এই সামরিক অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনা কাঠামোয় যে বড়সড় রদবদল হয়েছে, তা আসলে ইসলামাবাদের পরোক্ষ পরাজয়েরই ইঙ্গিত বহন করে।
জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, অপারেশন সিন্দুরের পর পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় কাঠামো বদলে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘চেয়ারম্যান, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি’ পদটি বাতিল করে সেখানে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি কমান্ড এবং আর্মি রকেট ফোর্সেস কমান্ড। ভারতের সামরিক নেতৃত্বের মতে, এই পরিবর্তন আসলে যৌথ সামরিক ব্যবস্থার দিকে এগোনোর বদলে আরও বেশি করে সেনাকেন্দ্রিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়াস।
চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ই মূল শক্তি, সেখানে পাকিস্তানের এই নতুন কাঠামো সেই যৌথতার ধারণাকেই দুর্বল করছে। তাঁর মতে, অপারেশন সিন্দুরে যে চাপ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে পাকিস্তানকে, তার ফলেই এমন তড়িঘড়ি সাংগঠনিক পরিবর্তন। এটি কার্যত স্বীকার করে নেওয়া যে আগের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
এই অভিযান পাকিস্তানের কৌশলগত দুর্বলতা প্রকাশ্যে এনেছে। সেই কারণেই ইসলামাবাদ এখন সেনাবাহিনীর হাতে আরও বেশি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পথে হাঁটছে। তবে জেনারেল চৌহান সতর্ক করে দেন, এই ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও সামরিক কার্যকারিতার জন্য ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অপারেশন সিন্দুরের পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভারতের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এটি শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সেই প্রভাবেরই প্রতিফলন, যা ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসলামাবাদের এক ধরনের নীরব স্বীকৃতি ও পরোক্ষ পরাজয় হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
