ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত–আমেরিকার মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় কম। ফলে রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য বড় সুবিধা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
অতীতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আমেরিকায় রফতানীজাত দ্রব্যের উপর ২৫% শুল্ক এবং জরিমানা হিসাবে আরও ২৫%, মোট ৫০% শুল্ক চোকাতে হত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের। যার ফলে আমেরিকা বাজারে ভারতীয় রফতানীজাত দ্রব্যের দাম তুলনামূলক ভাবে দামও বেশি ছিল। সেই মুল্য দিতে দত আমেরিকার সাধারণ মানুষদের। ভারত-আমেরিকার বানিজ্য ক্ষেত্রে এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ভারতীয় তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্রকৌশল পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, কৃষিজাত সামগ্রী ও আইটি-সহ একাধিক খাতের রফতানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলির তুলনায় কম শুল্কের কারণে মার্কিন ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় পণ্য বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই সমঝোতা। এক স্থায়ী ও টেকসয় বানিজ্য চুক্তির সিধান্তে পৌঁছানোর জন্য বিগত কয়েকমাস ধরেই দফায় দফায় আলোচনায় বসেছিল দিল্লি-ওয়াশিংটন। ভারতে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাজেট পেশ হওয়ার এক দিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আশার আলো দেখছেন ভারতী ব্যবসায়ী মহল। এই বানিজ্য চুক্তুর ফলে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক কেনাবেচা বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু বাণিজ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশের শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেনসেক্স ও নিফটি ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং রুপির দরও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। শিল্পমহলের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও গতি দেবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। কম শুল্কের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানি বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
