ওঙ্কার ডেস্ক: প্রায় সাত বছর ধরে তদন্ত চলার পর অবশেষে বহু কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। কলকাতার পরিচিত ব্যবসায়ী ও গয়না শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কমলেশ পারেখকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২,৬৭২ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত এই ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তারি দেশের আর্থিক অপরাধ দমনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কমলেশ পারেখ ও তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশের একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। মোট ২৫টি ব্যাঙ্কের একটি কনসোর্টিয়াম থেকে নেওয়া এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৬৭২ কোটি টাকা। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নেতৃত্বে থাকা এই কনসোর্টিয়ামকে ভুয়ো নথি, জাল আর্থিক তথ্য এবং মিথ্যা ব্যবসায়িক লেনদেন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তদন্তে আরও প্রকাশ, বিদেশে একাধিক শেল কোম্পানি তৈরি করে রপ্তানি ব্যবসার নামে এই বিপুল অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়। বিশেষত দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক জাল, যার মাধ্যমে প্রতারণার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সিবিআইয়ের দাবি, এই অর্থ পাচার কৌশল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরেই তা নজরের বাইরে ছিল।
২০১৬ সালে মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই কমলেশ পারেখের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে থাকে সিবিআই। ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি তার আগেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান। এরপর ইন্টারপোলের সহায়তা, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং ভারত সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অবশেষে দুবাইয়ে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। দীর্ঘ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, কমলেশ পারেখকে জেরা করে এই জালিয়াতি চক্রের আরও বড় নেটওয়ার্ক, সহযোগীদের ভূমিকা এবং পাচার হওয়া অর্থের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। একইসঙ্গে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কীভাবে এত বড় আর্থিক প্রতারণা সংঘটিত হল, সেই প্রশ্নও ফের সামনে উঠে এসেছে।