ওঙ্কার ডেস্ক: সুপারি কিলার ভাড়া করে মাকে গাড়ি চাপা দিয়ে খুনের অভিযোগে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন জয়পুরের আইনের ছাত্রী আয়ুষী। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন তাঁর মামা। অভিযোগ, ওই তরুণী তাঁর মাকে হত্যার আগে গত বছর নিজের বাবাকেও হত্যা করেছেন। জয়পুর আদালতের কর্মী বিজয় শর্মার—মৃত্যুর পর বিশেষ বিবেচনায় সেই চাকরিটি পেয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী নীরজ শর্মা। কিন্তু মা চাকরি পাওয়ায় বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আয়ুষী। চাকরি ও সম্পত্তির লোভে মাকে লোক ভাড়া করে খুন করান তিনি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত বছর বিজয় শর্মা মারা গিয়েছেন। আয়ুষীর মামার অভিযোগ, আয়ুষী তাঁর বাবার ফিডিং টিউব খুলে দিয়েছিলেন। যার ফলে মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও এই অভিযোগের পর গোটা বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। আয়ুষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই জয়পুরে একটি এসইউভি গাড়ির ধাক্কায় নীরজ শর্মা প্রাণ হারান। এলএলবি-র ছাত্রী আয়ুষী তাঁর তুতো ভাই বলরামের সাহায্য নিয়ে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন। মাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওই তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে আয়ুষী তাঁর মায়ের জায়গায় সরকারি চাকরিটি পেতে চেয়েছিলেন। সেই সঙ্গে পরিবারের সম্পত্তির ওপরও তার নজর ছিল। তাঁর মামা রাকেশ শর্মার অভিযোগ, বিজয় শর্মার ব্রেন স্ট্রোকের পর আয়ুষী ও তার তুতো ভাই বলরাম একটি অজানা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিন মাস ধরে তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।
আয়ুষীর মা বারবার জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানিয়েছিলেন, বাবাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। পরে পরিবার বিজয় শর্মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে, কিন্তু চিকিৎসকরা জানান তাঁর শরীরের একাধিক অঙ্গ অকেজো হয়ে পড়েছে। আয়ুষী এর আগেও তাঁর মাকে মারধর করেছিল বলে অভিযোগ। কিছুদিন ধরে কাকা মোহন ও তুতো ভাই বলরামের সঙ্গে থাকছিলেন তিনি। পুলিশ জানতে পেরেছে, আয়ুষীর সঙ্গে বলরামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।