ওঙ্কার ডেস্ক: নয়াদিল্লির বঙ্গভবন ঘিরে হঠাৎই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন। তাঁর দাবি, বঙ্গভবনে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষ ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং অযথা পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের জন্য কয়েকজন মানুষ দিল্লির বঙ্গভবনে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় হঠাৎই বিপুল সংখ্যক দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবন চত্বর ঘিরে ফেলে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পুলিশের একটি দল ভবনের ভেতরে ঢুকে ঘর ঘর তল্লাশি চালায় এবং সেখানে থাকা মানুষদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উপস্থিতরা।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত বঙ্গভবনে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তড়িঘড়ি পৌঁছে তিনি পুলিশি আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, একটি রাজ্যের সরকারি অতিথিশালায় এভাবে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো সাংবিধানিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং ফেডারেল কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বা প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমন করা যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের নির্দেশেই দিল্লি পুলিশ অযথা চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দেন, বাংলার মানুষকে দুর্বল ভাবা ভুল হবে এবং প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক পথে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বঙ্গভবন চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তা বজায় রাখা হলেও পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।
