ওঙ্কার ডেস্কঃ দেশের ইতিহাসে প্রথমবার। কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিমকোর্টে সওয়াল করলেন। এসআইআর সংঘাতে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রীতিমতো ছক ভেঙেছেন। নিজের মামলায় নিজেই সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিরাচরিত সাদা শাড়ি। গলায় কালো চাদর। বুধবার শুনানি শুরুর আগেই সুপ্রিমকোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। চেনা ছন্দ আর চেনা ঝাঁঝ।
বুধবার শুনানিতে আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সুপ্রিমকোর্টে মামলাকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান প্রশ্ন করেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে মাত্র ১১ দিন হাতে। ১ কোটি ৩৬ লক্ষ লোককে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকায় ফেলা হয়েছে। ৬৩ লক্ষ হিয়ারিং বাকি। এই হিয়ারিং শেষ করার জন্য মাত্র ৪ দিন হাতে। ৮৩০০ মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। কী ভাবে শেষ হবে বাংলার SIR?’
শুনানি চলাকালীন বলার জন্য অনুমতি চান মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্জুর করেন প্রধান বিচারপতি। ৫ মিনিট বলার অনুমতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের সমর্থনে বাস্তব জীবনের ঘটনা তুলে ধরেন। বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “এগুলো আমার ছবি নয়। এগুলো স্বনামধন্য সংবাদপত্রের ছবি।”
এসআইআর-কে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে নারীরা বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করেছেন, যারা বাড়ি পরিবর্তন করেছেন এবং যে দরিদ্র পরিবারগুলো ছোট ফ্ল্যাট কিনেছেন, তাদের নাম যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই বাদ দেওয়া হচ্ছে।
আধারকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এমন নথি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে যা অন্য সব জায়গায় গৃহীত হয়, যেমন জাতিগত শংসাপত্র। তিনি প্রশ্ন করেন, “নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে বেছে নেওয়া হলো? এই এসআইআরের কারণে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিএলও-দের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “যদি এটি প্রকৃত সংস্কার হতো, তাহলে আসামে কেন নয়?
আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আমি আমার নিজের জন্য লড়াই করছি না, আমার দলের জন্য লড়াই করছি না, এই লড়াই রাজ্যের জন্য।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কোনও নির্দোষ নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। ম্যাডাম মমতা- আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আপনার পিটিশনের মাধ্যমে আসল সমস্যা জানতে পেরেছি। কাউকে তাদের দায়িত্ব পালন না করে পালাতে দেওয়া যাবে না।’
মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালের পাল্টা কমিশনের তরফে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন,‘আমরা অনেক গুলি চিঠি লিখে ক্লাস টু অফিসার চেয়েছি। পাইনি। রাজ্য সহযোগিতা করছে না।
কমিশনের আইনজীবীদের সওয়ালের পাল্টা, মমতা বলেন,‘আমার বিরোধী পক্ষের আইনজীবীরা যা বলছেন সব সত্য নয়। আমরা এদের সহযোগিতা করেছি। যা চেয়েছে, দিয়েছি। তা সত্ত্বেও প্রথম পর্বে ৫৮ লাখ, পরের পর্বে ১ কোটি ৩৬ লাখ লোককে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
সব পক্ষের কথা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা এই ম্যাটারের সলিউশন করব। আপনারা আমাকে রাজ্যের অফিসারদের তালিকা দিন, যারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করবে। এই বিষয়ে সব পক্ষকে নোটিস করা হয়েছে। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।
সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলার শুনানির পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। সেখানে তৃণমূলের তরফে লেখা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় জয়। সুপ্রিম কোর্টে SIR সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কমিশনকে নোটিস দিতে বলেছে। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের অফিসারদের মানবিক হতে বলেছে।
