ওঙ্কার ডেস্ক: সংসদের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্র ও রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তব্যের একাংশে তিনি কোনও ব্যক্তির নাম না করলেও স্পষ্টভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শানান। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করে, কিন্তু কিছু দল রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার বজায় রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি লড়াই করা হচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে বলেন, যথাযথ যাচাই ছাড়া হঠাৎ করে নাম কাটা হলে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ত্রুটি ও বিভ্রান্তির কারণে সাধারণ নাগরিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা পাল্টা দাবি করেছেন, রাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়েছে এবং এটিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
