ওঙ্কার ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরস্কার কি একজন বিজয়ী নিজের ইচ্ছেমতো অন্য কাউকে দিয়ে দিতে পারেন এই প্রশ্নকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের আবহেই নরওয়ের নোবেল কমিটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কমিটির ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিজয়ীর নাম এবং পরিচয় কখনওই বদলানো যায় না। যাঁর নামে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, ইতিহাসে তিনিই নোবেলজয়ী হিসেবে চিরকাল নথিভুক্ত থাকবেন।
নোবেল কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, পুরস্কার ঘোষণার পর পদক, ডিপ্লোমা কিংবা অর্থমূল্যের উপর বিজয়ীর ব্যক্তিগত অধিকার থাকে। সেই কারণে কোনও নোবেলজয়ী চাইলে নিজের পদক অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন, দান করতে পারেন অথবা বিক্রি করতেও পারেন। তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত হলেও তা পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিতে কোনও প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ যিনি পদক গ্রহণ করছেন, তিনি কোনওভাবেই নোবেলজয়ী হিসেবে গণ্য হবেন না।
কমিটি আরও জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার কোনও উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরযোগ্য সম্মান নয় এবং একে পুনরায় কাউকে প্রদান করারও কোনও সুযোগ নেই। নোবেল পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য হল নির্দিষ্ট এক ব্যক্তি বা সংস্থার শান্তি প্রতিষ্ঠার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, যা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই চূড়ান্ত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই পুরস্কার নিয়ে কী করা হবে, তা নীতিগতভাবে নোবেল ফাউন্ডেশনের আওতাভুক্ত নয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৫-এর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজেতা ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া করোনা মাচাদো নিজের নোবেল পুরষ্কারের স্মারকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়ায় চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল বিশ্ব রাজনীতিতে। নোবেল কমিটি সরাসরি মাচাদো বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেনি নিজেদের বিবৃতিতে। তবে এই প্রেক্ষাপটেই তাঁদের এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে তা নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল।
এর আগেও একাধিক নোবেলজয়ী তাঁদের পদক নিলামে তুলেছেন বা মানবিক কাজে দান করেছেন। এই ঘটনাগুলি নোবেল পুরস্কারের মর্যাদাকে খর্ব করেনি বলেই দাবি নোবেল কমিটির। বরং কমিটির মতে, এই ধরনের উদ্যোগ অনেক সময় পুরস্কারের মানবিক ও শান্তিবাদী ভাবনাকেই আরও শক্তিশালী করে। নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য বস্তু হলেও নোবেলজয়ীর পরিচয় ও ইতিহাস কখনওই হস্তান্তরযোগ্য নয়। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে পুরস্কারের নিয়ম, ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি আবারও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
