ওঙ্কার ডেস্ক: শুক্রবার সন্ধ্যায় বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় আচমকাই তীব্র ঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। রাজধানী পাটনা-সহ একাধিক জেলায় প্রবল দমকা হাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জেরে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে দু’জন পাটনার বাসিন্দা, যাঁরা ঝড়ের সময় গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারান। অন্যদিকে বৈশালী জেলাতেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে বহু জায়গায় বড় বড় গাছ উপড়ে রাস্তার উপর পড়ে যায়, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। বহু এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের বহু মানুষকে রাত কাটাতে হয় অন্ধকারে। বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের জেরে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও খবর মিলেছে।
দুর্যোগের খবর পেয়েই প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। রাস্তা পরিষ্কার করা, বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু হয়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আরও ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা দুর্বল নির্মাণের আশেপাশে অবস্থান না করার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।