ওঙ্কার ডেস্ক: বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেই প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে উদ্যোগী হল কেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের অগ্রগতি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে গুড গভর্ন্যান্স বা উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সামনে রেখেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি মহলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী চান কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোক। সেই কারণেই বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় কাজের গতি কম, কোন প্রকল্পে বাধা রয়েছে, কোথায় আরও নজরদারির প্রয়োজন তা নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে বৈঠকে। পাশাপাশি ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তব পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ফলে অনেকেরই ধারণা, মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন বা তথাকথিত রিপোর্ট কার্ড নিয়েও প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করতে পারেন। যদিও সরকারিভাবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সম্প্রতি সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। ইউরোপ সফরে একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশে ফিরে সরাসরি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়া রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনকে আরও মজবুত করতেই এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং তার সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব তা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায়না। মনে করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে দেশের অবস্থাকে কিভাবে স্থিতিশীল কর আযায় সে নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে প্রশাসনিক আলোচনা হতে পারে এদিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু নিয়মরক্ষার প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং কেন্দ্র সরকারের আগামী দিনের কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সংস্কারে কেন্দ্র যে আরও সক্রিয় হতে চাইছে, এই বৈঠক তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।