ওঙ্কার ডেস্ক: কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে ডায়ালিসিস নিতে হচ্ছে সদ্য মা হওয়া পাঁচ মহিলার। কিন্তু সেই অসহনীয় যন্ত্রণা আর নিতে না পেরে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানালেন দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে। রাজস্থানের কোটার একটি সরকারি হাসপাতালে ওই মহিলাদের কিডনি বিকল হওয়ার পর চিকিৎসা চলছে। তাঁরা চাইছেন হয় কিডনি প্রতিস্থাপন করা হোক, নইলে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক।
পাঁচ মহিলার মধ্যে এক জন রাগিনী। তিনি গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ডায়ালিসিস নিচ্ছেন। এই যন্ত্রণাদায়ক প্রক্রিয়ায় তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। শরীরে জ্বর নিয়ে তিনি বলেন, স্বামী চাকরি হারিয়েছেন তাঁকে দেখাশোনা করতে গিয়ে। ওই মহিলা এখন কিডনি প্রতিস্থাপনের দাবি করেছেন। রাগিনীর পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুশীলা, সুমন, আরতি ও পিঙ্কি—পাঁচ জন ডায়ালিসিসের অসহনীয় যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটামও দিয়েছিলেন তাঁরা। সাময়িকভাবে ডায়ালিসিস নেওয়া বন্ধ রেখেছিলেন পাঁচ জন। তবে কাউন্সেলিং এর পর তাঁরা পুনরায় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে রাজি হন। তা সত্ত্বেও, তীব্র যন্ত্রণা, আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক দুশ্চিন্তার কারণে তাঁরা বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন।
সম্প্রতি পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়া সুশীলা মাহাওয়ার গত ২৭ এপ্রিল থেকে কোটার হাসপাতালে ডায়ালিসিস নিচ্ছেন। তাঁর স্বামী পেশায় একজন দিনমজুর। তাঁদের তিনটি মেয়ে রয়েছে। পুরো পরিবার হাসপাতালের বাইরে রাত কাটাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে তাঁর স্বামী কাজ করতে পারছেন না। এর ফলে পরিবারটির ওপর প্রায় ৬০,০০০ টাকার ঋণ জমে গেছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি হয় কিডনি প্রতিস্থাপন করা হোক, নইলে স্বেচ্ছামৃত্যু দেওয়া হোক। সুশীলা বলেন, ‘আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। পরিবারের ওপর ঋণের বোঝা বাড়ছে। আমার তিনটি মেয়ে। এখন একটি নবজাতক ছেলে রয়েছে। আমার মনে হচ্ছে আমি পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছি। আমি আর এভাবে বাঁচতে চাই না।’ বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নীলেশ জৈন জানান, নিয়ম অনুযায়ী কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া ৯০ দিন পর শুরু হয়। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় নিয়মিত ডায়ালিসিস ও চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনির কার্যকারিতা ফিরে পাওয়া যায়।