ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী সপ্তাহে সংসদে শুরু হতে চলেছে বাদল অধিবেশন। এই অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল পেশ করতে পারে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। পাশাপাশি চর্চায় রয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিলও। তবে দুটি বিল লোকসভায় পাশ করানোর তোড়জোড় শুরু হলেও এখনও সরকার পক্ষের চিন্তার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। মূলত সংখ্যার গেরোয় আবার আটকে যেতে পারে এই বিল দুটি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসেবে, ৫৪৩ আসন বিশিষ্ট লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যার জন্য ৩৬২টি আসনের প্রয়োজন। বর্তমানে তিনটি আসন শূন্য থাকায়, লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাটি ৩৬০-এ নেমে এসেছে। গত এপ্রিলে যখন বিলটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল, তখন এর পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছিল। বর্তমানে এনডিএ-র কাছে ২৯৩ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বেসুরো সাংসদ এনসিপিআই নামক একটি দলে যোগদান করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা এনডিএ শিবিরকে সমর্থনের কথাও ঘোষণা করেছে। এছাড়া শিবসেনা-ইউবিটি-র ছয় সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থন জানানোয় শাসক শিবিরের মোট সাংসদ সংখ্যা এখন ৩১৯-এ দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই সংখ্যা এখনও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে কম। তামিলনাড়ু নির্বাচনের পর কংগ্রেস ও ডিএমকে-র মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেদিকেও কেন্দ্রীয় সরকার নজর রাখছে।
ডিএমকে এর তরফে জানানো হয়েছে, সরকার নতুন বিলটি পেশ করলেই তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। সূত্রের খবর, দলীয় সাংসদদের এক বৈঠকে ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন বলেছেন, ডিএমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজেপি বা কংগ্রেস—কারও পক্ষই নেবে না। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে নিজেদের অবস্থান ঠিক করবে। তাই এখন সবার নজর ডিএমকে-র ২২ জন এবং এনসিপি-এসপি-র আট সাংসদের উপর। কারণ এদের সমর্থন পেলে সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।