ওঙ্কার ডেস্ক: পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস বাকি। তার আগে রাজ্য কংগ্রেসে বড় সাংগঠনিক রদবদল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং। বুধবার রাতে দিল্লির কংগ্রেস সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রদেশ সভাপতি বেছে নেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী বিজয় ইন্দর সিংলা। পাশাপাশি জালন্ধর ক্যান্টনমেন্টের বিধায়ক তথা প্রাক্তন হকি অধিনায়ক পরগত সিং এবং গুরদাসপুরের সাংসদ সুখজিন্দর সিং রন্ধাওয়ার নামও আলোচনায় রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে লুধিয়ানা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন ওয়ারিং। তার আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তিনি পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির দায়িত্ব নেন।
২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পঞ্জাব কংগ্রেসে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছিল। সেই নির্বাচনে আম আদমি পার্টির কাছে বড় ধাক্কা খায় কংগ্রেস। কিন্তু তারপরেও দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে সেই দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে আসে।
ওয়ারিংকে কংগ্রেসের একটি গোষ্ঠীর মুখ হিসেবে দেখা হত। অন্যদিকে আরেকটি গোষ্ঠী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নির পাশে ছিল। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর বিদ্রোহের জেরে চন্নিকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। সেই সময় নবজ্যোৎ সিং সিধুর সঙ্গেও দলের নেতৃত্বের সংঘাত তীব্র হয়েছিল। পরে সিধু দল ছেড়ে দেন।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই পুরনো দ্বন্দ্বেরই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জুলাইয়ে ওয়ারিংকেই প্রদেশ সভাপতি হিসেবে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়। তৎকালীন পঞ্জাবের কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভূপেশ বাঘেল ওয়ারিংয়ের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এরপর ওয়ারিং এবং তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন নিয়ে পর পর খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে পঞ্জাবে এবং পরে জাতীয় স্তরেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেপ্টেম্বরে সাংগঠনিক রদবদলের পথে হাঁটে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।