ওঙ্কার ডেস্ক: ২৩ বছর ধরে ইরাকে চলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির অবসান হল। বুধবার দেশটি থেকে শেষ সেনাও সরিয়ে নিল আমেরিকা। উত্তর ইরাকের কুর্দ স্বশাসিত অঞ্চলের এরবিল এয়ার বেস থেকেও মার্কিন সেনা সরে গেল। ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযানে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু সেই দীর্ঘ যুদ্ধ থেকে আমেরিকার প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যেই এই সেনা প্রত্যাহার সম্পূর্ণ হল। পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এরবিলের শেষ বড় ঘাঁটিও ছেড়ে দিয়েছে। মার্কিন সরকারের দাবি, এই প্রত্যাহার আগেই নির্ধারিত ছিল। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে বাগদাদের সঙ্গে সেনা সরানোর বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ীই এখন প্রত্যাহার সম্পন্ন হচ্ছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ট্রাম্প নিজেও ইরাক থেকে সেনা সরানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির পাশে বসে তিনি বলেছিলেন, ইরাকে আর মার্কিন সেনা রাখার প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য ছিল, সেখানে আমেরিকার এক জন ‘চ্যাম্পিয়ন’ রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরই ইরাকের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর কাজ শুরু হয়। মসুল, কিরকুক, বডরা এবং নাসিরিয়ার ঘাঁটিগুলি থেকে ধাপে ধাপে সরানো হয় মার্কিন বাহিনীকে। আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতেও মার্কিন সেনার তৎপরতা কমে আসে। বাগদাদের কাছে ক্যাম্প ভিক্টোরিতেও একই ছবি দেখা যায়।