জুলাই গণআন্দোলনে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর উত্তাল হয়েছিল ঢাবি ক্যাম্পাস। একদল পড়ুয়া শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল ফটক থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিয়ে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরে হলের গেটে নতুন নামও লিখে দেওয়া হয়। এরপর গত জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে হলের নাম বদলে শহিদ ওসমান হাদি হল করার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সুপারিশের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি নথিতে নাম বদল কার্যকর হয়না।
এমতাবস্থায় সেই নামই ফের বদলে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, বুধবার দুপুর থেকে হলের ফটক থেকে ওসমান হাদির নাম মুছে ফের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, “শহিদ ওসমান হাদি হল নামটি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই লিখেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কখনও অনুমতি দেয়নি। তাই হলের আসল নামই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।”
যদিও এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ডাকসু। ছাত্র সংসদের বক্তব্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবের নামে হল থাকা তাদের দাবির সঙ্গে যায় না। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের অভিযোগ, “শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্র বললেই ছাত্রলীগের তকমা জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই গণস্বাক্ষর নিয়ে আমরা নামবদলের দাবি জানিয়েছিলাম।” তবে সেই প্রতিবাদ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নামেই হলের নাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।