ওঙ্কার ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের সরব হলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। রাজ্যসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবারের যে আস্থা নষ্ট হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, প্রয়োজন কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার।
নিজের দীর্ঘ নীরবতা প্রসঙ্গে রাঘব চাড্ডা জানান, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন তিনি এত বড় একটি ইস্যুতে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। এর জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসার জন্য তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি সমাধানের পক্ষে কথা বলা, যা ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে এবং পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে। রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের ছাত্রছাত্রীরা আজ যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে ভুগছে, তার অন্যতম কারণ পরীক্ষা নিয়ে আস্থার সংকট। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় বসার পর যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়, তাহলে মেধাবী ও পরিশ্রমী পড়ুয়াদের প্রতি বড় অবিচার হয়। এই ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষাকেই নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
রাঘব চাড্ডা আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এর পিছনে সংগঠিত চক্র কাজ করে এবং তাদের মোকাবিলায় শক্তিশালী আইন ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি মনে করেন, পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তির আরও কার্যকর ব্যবহার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। নিজের বক্তব্যে তিনি একটি উদাহরণ টেনে বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা যেমন সাধারণ জ্বরের ওষুধ দিয়ে করা যায় না, তেমনই প্রশ্নফাঁসের মতো গভীর সমস্যার সমাধানও শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা রাজনৈতিক বিবৃতির মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য গোটা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন এবং সেই লক্ষ্যেই সরকার যে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন।