নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলীঃ আবাস যোজনায় নাম ছিল। তৃণমূল আমলে প্রথম কিস্তি পেলেও আর টাকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। ফলে ওই পরিবারকে মাটির বাড়িতেই থাকতে হচ্ছিল। শ্রাবণের প্রবল বৃষ্টিতে ওই মাটির বাড়ির ভিত আলগা হয়ে যায়। সেই মাটির দেওয়ায় ধসেই মৃত্যু হল বাবা ও মেয়ের! মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির মগরা এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম গৌর মালিক। তাঁর ১২ বছরের কন্যার নাম মাম মালিক। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তৃণমূল আমলে আবাস যোজনার টাকা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে একাংশের মধ্যে। সপ্তগ্রাম বিধানসভার মগরা দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গজ ঘন্টা মালিকপাড়ায় বাস ছিল ওই পরিবারের। বছর ৫৭ বয়সের গৌর মালিকের স্ত্রী আগেই মারা গিয়েছেন। ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়েই থাকতেন পেশায় সবজি বিক্রেতা গৌর। মাটির বাড়িতে বাস করায় আবাস যোজনায় পাকাবাড়ি তৈরির জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করেছিলেন তিনি। অনেক গড়িমসির পর আবাসে নামও ওঠে। প্রথম কিস্তির টাকাও পাওয়া যায়। কিন্তু তৃণমূল আমলে তারপর আর টাকা মেলেনি বলে অভিযোগ। পাকা ঘর তৈরি না হওয়ায় বাবা-মেয়েকে মাটির পুরনো বাড়িতেই অগত্যা থাকতে হচ্ছিল। আর সেখানেই ঘটল ওই ঘটনা। মেয়েকে নিয়ে মাটির ঘরেই থাকতেন গৌর ৷ তাঁর এক ছেলে কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন ৷ অভিযোগ, মগরা দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে গৌরের নামে আবাস যোজনার বাড়ি বরাদ্দ হয়েছিল ৷ কিন্তু, আবাসের বাড়ি তৈরির পুরো টাকা তিনি পাননি ৷ তাই পাকা বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করাতে পারেননি গৌর বাধ্য হয়ে মাটির বাড়িতেই বসবাস করছিলেন ৷ গত তিন-চারদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে সেই মাটির বাড়ির দেওয়াল কমজোর হয়ে ভেঙে পড়ে এবং বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয় ৷
অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে তাঁর নামে আবাস যোজনার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল মগরা দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ৷ কিন্তু, প্রথম কিস্তির টাকা দিতে গড়িমসি করা হয়েছিল পঞ্চায়েতের তরফে ৷ শেষমেশ টাকা হাতে পেলেও, তা পুরো ছিল না-বলে অভিযোগ ৷ তবে, সেই টাকা দিয়েই কোনওমতে কাজ শুরু করলেও, দ্বিতীয় ধাপের টাকা আর হাতে পাননি এই প্রৌঢ় ৷ ফলে অর্ধসমাপ্ত অবস্থাতেই থেকে যায় আবাস যোজনার বাড়ি ৷ মৃতের ছেলে প্রসেনজিৎ মালিক বলেন, “প্রতিবেশীরা ফোন করে জানায় দুর্ঘটনার কথা ৷ গত পরশু বাবার সঙ্গে এক ঘণ্টা কথা হয়েছিল ৷ রবিবারে বাড়ি গিয়ে কিছু টাকা দিয়ে আসার কথাও বলেছিলাম ৷ প্রতি রবিবার বাড়ি আসি ৷ যখন যেমন পাই, সেরকম কাজ করি ৷ 10-12 বছর ধরে বাইরে আছি ৷ বাবাকে বলেছিলাম দেয়ালটা ফেলে দিয়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিতে ৷ কিন্তু, বাবা আমার কথা শোনেনি ৷ তাই এই দুর্ঘটনা ঘটল ৷”