ওঙ্কার ডেস্ক: অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে অনুদান চুরি সংক্রান্ত মামলায় ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইকে ক্লিনচিট দিতে চলেছে বিশেষ তদন্তকারী তদন্তকারী দল বা সিট। মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে সিটের। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে ষড়যন্ত্রের পিছনে চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গোটা ঘটনায় চম্পত রাইয়ের গাফিলতি ও তদারকির অভাব ছিল। এছাড়া, চুরির ঘটনায় অনিল মিশ্রের ভূমিকাও আতসকাচের তলায় রেখেছেন তদন্তকারীরা। তাঁকে এই ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির অভিযোগকে ঘিরে গোটা শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পাশাপাশি আদালত অবধি গড়ায়। এই ঘটনায় আগেই একাধিক গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। তদন্তের জন্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টও চলতি সপ্তাহের শুরুতেই নির্দেশ দিয়েছিল, সিটকে একটি ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ দাখিল করতে হবে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টকে নোটিশ পাঠায় শীর্ষ আদালত। সূত্রের খবর, ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের বদলে কাঠামোগত ত্রুটি বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে সিট। তার মধ্যে অন্যতম হল মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থার নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা। এ ছাড়া সুপারিশ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ট্রাস্টে কর্মী নিয়োগ যাতে না করা হয়। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সিট।
উল্লেখ্য, ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির ঘটনায় ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সিট এর প্রাথমিক তদন্তের পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আট জনকে গ্রেফতার করেছিল। ধৃতদের নাম—রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, করুণেশ পান্ডে, মণীশ কুমার যাদব, লভকুশ মিশ্র, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। সকলেই মন্দিরের অনুদান সংগ্রহ ও গণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।