ওঙ্কার ডেস্ক: ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমার। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন সজ্জন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর শিখ দেহরক্ষীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। এরপরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের উপর হামলা শুরু হয়। দাঙ্গায় সজ্জন কুমারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। দিল্লির রাজনগর এলাকার একটি ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর একটি শিখ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। একটি গুরুদ্বারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। দাঙ্গার সময় শিখদের দোকান ও বাজার হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেই হিংসায় প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
তবে দীর্ঘ সময় সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ হয়নি। দাঙ্গা তদন্তে গঠিত কয়েকটি কমিশনের রিপোর্টেও প্রথম দিকে তাঁর নাম উঠে আসেনি। রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশন এবং জৈন-অগরওয়াল প্যানেলের রিপোর্টেও তাঁর নাম ছিল না। পরে ওই মামলা নতুন মোড় নেয়। দায়রা আদালত ঘটনায় জড়িত পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলর বলবান খোকার এবং প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার ক্যাপ্টেন ভাগমল। সেই পর্যায়ে সজ্জন কুমার খালাস পেয়েছিলেন। দায়রা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টে যায় সিবিআই। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর হাই কোর্ট সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তার পর থেকেই তিহাড় জেলে ছিলেন তিনি।