ওঙ্কার ডেস্ক: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের গণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা। প্রাথমিক প্রবণতায় ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোতেই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই আবহে কংগ্রেস নেতা তথা তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুরকে প্রশ্ন করা হয়, কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখা যেতে পারে। উত্তরে থারুর অত্যন্ত সংযত ভঙ্গিতে জানান, এই সিদ্ধান্ত দল এবং জোট নেতৃত্বই নেবে, তবে ভোটের প্রবণতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে কেরলের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন।
শশী থারুর সরাসরি নিজের নাম না বললেও তাঁর মন্তব্যে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘদিনের শাসনের পর রাজ্যের মানুষ নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছেন। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে মানুষের মতই শেষ কথা এবং ভোটের ফলাফল সেই ইচ্ছার প্রতিফলন। থারুরের কথায় বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকের পরই কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচিত কড়া হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, থারুরের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বহুদিন ধরেই তাঁকে কেরলে কংগ্রেসের আধুনিক, গ্রহণযোগ্য এবং শক্তিশালী মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিএফ যদি ক্ষমতা হারায় এবং ইউডিএফ সরকার গঠন করে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য মুখ নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শশী থারুরের প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং শিক্ষিত ভাবমূর্তি তাঁকে অন্যদের তুলনায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারে। যদিও রাজ্য কংগ্রেসের একাধিক প্রবীণ নেতাও এই দৌড়ে থাকতে পারেন। অতীতে একাধিকবার থারুরের বিজেপি ঘেষা মনোভাবের কারনে কংগ্রেসে শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে সাময়িক দুরত্ব তৈরি হলেও তা মিটিয়ে নেন তিরুবন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর।
নির্বাচনের ফলাফল এখনও সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত না হলেও, থারুরের মন্তব্য কেরলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ইউডিএফের সম্ভাব্য জয় যেমন রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই শশী থারুরের নাম নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী পদের আলোচনায় উঠে আসায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এখন নজর থাকবে চূড়ান্ত ফলাফল এবং তার পরবর্তী দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে।