ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল গণনাকে কেন্দ্র করে দিনভর রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি, একাধিক গণনাকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটগণনার গতি শ্লথ করা হচ্ছে এবং ‘বিহার মডেল’ অনুসরণ করে ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে গণনা ধীর করে বিভ্রান্তি ছড়ানো, বিরোধী শিবিরকে মানসিক চাপে রাখা এবং পরবর্তী পর্যায়ে ফলের গতিপথ বদলানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রথম দফার গণনার পর অস্বাভাবিক বিলম্ব লক্ষ্য করা যায়। দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, যেখানে বিজেপি পিছিয়ে রয়েছে, সেখানে ফল ঘোষণায় অকারণ দেরি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় প্রার্থী, কাউন্টিং এজেন্ট ও কর্মীদের গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, শেষ রাউন্ড পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনও অবস্থাতেই প্রক্রিয়ার উপর থেকে নজর সরানো যাবে না।
শাসকদলের আশঙ্কা, গণনার ধীরগতিকে হাতিয়ার করে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারে, যাতে জনমনে ভুল বার্তা যায়। তৃণমূলের একাংশের মতে, বিহারের নির্বাচনে যেমন ধাপে ধাপে ফল প্রকাশের সময় নানা প্রশ্ন উঠেছিল, বাংলাতেও সেই একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা হচ্ছে। ফলে গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির।
অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। পদ্মশিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই গণনা চলছে এবং তৃণমূল সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, গণনার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং অভিযোগ তুলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে শাসকদল। এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যে গণনা চললেও রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক অভিযোগে উত্তেজনা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, সমস্ত প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও বিধিসম্মতভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে।
ফলাফল যত সামনে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই নির্বাচন শুধুমাত্র আসন দখলের লড়াই নয়, বরং গণনার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে তাই ভোটের ফল ঘোষণার পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রিক এই বিতর্কও সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।