ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন চরমে, তখন ভাঙড় কেন্দ্রকে ঘিরেও বাড়ছে আগ্রহ। রাজ্যের অধিকাংশ আসনে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সরাসরি লড়াই স্পষ্ট হলেও, ভাঙড়ে আইএসএফ প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি নিজের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। ভোটগণনার শুরুর দিকে পিছিয়ে থাকলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ভাঙড় কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয় তাঁরই হবে।
নওশাদ সিদ্দিকির দাবি, ভাঙড়ে সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন এবং সেই কারণেই প্রকৃত জনমত ফলাফলে প্রতিফলিত হবে। তাঁর কথায়, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনে মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভাঙড়ে তিনি অন্তত ৫০ হাজার ভোটে জয়ী হবেন। শুধু নিজের আসন নয়, রাজ্যজুড়েও বাম-আইএসএফ জোটের ফল আশাব্যঞ্জক হবে বলেই মত তাঁর। তাঁর পূর্বাভাস, এই জোট বিধানসভায় ডবল ডিজিটে পৌঁছতে সক্ষম হবে।
ফল ঘোষণার প্রাথমিক ধাপে যদিও ভাঙড়ে তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা এগিয়ে ছিলেন, তবুও নওশাদের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়নি। বরং তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলই সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। বিজেপির সংগঠন নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বহু বুথে বিজেপি এজেন্ট দিতেই পারেনি, যা তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রমাণ।
নওশাদ আরও বলেন, এবারের ভোটে বহু এলাকায় মানুষ প্রথমবারের মতো তুলনামূলকভাবে নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। সেই কারণেই ফলাফল নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বৃহত্তর বিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রেও আইএসএফের উপস্থিতি জোরালো করতে চাইছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রাথমিক গণনায় পিছিয়ে থাকলেও নওশাদের এই আত্মবিশ্বাস তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার কৌশল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙড়ে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের ওপর নির্ভর করেই তিনি শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ানোর আশা রাখছেন। তবে চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে তাঁর এই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তবসম্মত। ভোটের ময়দানে তাঁর লড়াই যেমন নজরকাড়া, তেমনই রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে তাঁর অবস্থানও এই ফলাফলের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।