ওঙ্কার ডেস্ক: লাদাখের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘদিনের জেল হেফাজত নিয়ে এবার সরব হল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রসঙ্গ সামনে আসতেই কেন্দ্রের কাছে কড়া প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছে, স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর আটকাদেশ পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না।
সাম্প্রতিক শুনানিতে বিচারপতিরা জানান, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে যে মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা পড়েছে, তা সন্তোষজনক নয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নেই বলেই ইঙ্গিত মেলে রিপোর্টে। এমন পরিস্থিতিতে একজন প্রবীণ সামাজিক কর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে। কেন্দ্রকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি নতুন করে ভাবার পরামর্শও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, লাদাখে রাজ্যের পূর্ণ মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনের সময় ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আটক করা হয়। প্রশাসনের দাবি, ওই আন্দোলনের জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল এবং তাঁর ভূমিকা তদন্তের প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই তাঁকে আটক রাখা হয়েছে। তবে তাঁর পরিবার এবং সমর্থকদের অভিযোগ, আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক, তাই এই আটকাদেশ অন্যায় ও অমানবিক।
প্রায় পাঁচ মাস ধরে জেলে থাকার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের তরফে দাবি, তিনি নিয়মিত অসুস্থ বোধ করছেন এবং যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতেই আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর স্ত্রী। আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ আটক তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং তাঁর জীবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শুনানির সময় আদালত কেন্দ্রের আইনজীবীর কাছে জানতে চায়, একজন সমাজকর্মীর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে হেফাজতে রাখা হবে। বিচারপতিরা ইঙ্গিত দেন, আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতার দিকটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাক্ষেত্রে ও পরিবেশ রক্ষায় ওয়াংচুকের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনেকেই তাঁর মুক্তির দাবি তুলছেন। অন্যদিকে, প্রশাসন এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর কেন্দ্র সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে সোনম ওয়াংচুকের ভবিষ্যৎ।
