ওঙ্কার ডেস্ক: বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে কয়লাভিত্তিক শিল্পকারখানা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, ফলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
আদালতে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দিল্লি ও তার আশপাশে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক শিল্প এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া গেলে বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। বিশেষত শীতকালে দিল্লির আকাশে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়, তার অন্যতম কারণ শিল্পাঞ্চল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত দূষিত গ্যাস। সেই প্রেক্ষিতেই দিল্লি-কেন্দ্রিক ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নতুন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়েও আদালত মতামত চেয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রকের থেকে এ বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে দেহসের শীর্ষ আদালত। এই তালিকায় আছে পরিবেশ মন্ত্রক, বনদফতর এবং আবহাওয়া দফতর, পেট্রলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রকে এ বিষয়ে বিশদ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিল্প স্থানান্তর কতটা বাস্তবসম্মত, তার অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত প্রভাব কী হতে পারে, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
শুধু কেন্দ্র নয়, এনসিআরভুক্ত রাজ্যগুলিকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেছে আদালত। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থান সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট শিল্পসংস্থাগুলিকে নোটিস জারি করে মতামত ও আপত্তি জানাতে সুযোগ দিতে। পাশাপাশি একটি ‘অ্যাকশন টেকেন প্ল্যান’ বা করণীয় পরিকল্পনাও জমা দিতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শিল্প দূষণের পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণক্ষেত্রের ধুলোও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এই প্রসঙ্গে বায়ু মান ব্যবস্থাপনা কমিশননের সুপারিশগুলিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে যানবাহন নির্গমন নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
পরিবেশবিদ দের মতে, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের অসুখ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়েছে বহুগুণ। সেই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের এই কড়া অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
