ওঙ্কার ডেস্ক: আরাবল্লী পর্বতমালায় অনিয়ন্ত্রিত খননকার্য নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রাচীনতম পর্বতমালাগুলির অন্যতম এই পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে আপাতত কোনও ধরনের খনন বা জমি খোঁড়ার কাজ করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আরাবল্লীর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন, কারণ দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে খননের ফলে এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ কমিটি আরাবল্লী পর্বতমালার প্রকৃত সীমানা, ভৌগোলিক বিস্তার এবং সংরক্ষণযোগ্য অংশ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিতেও খনন বা উন্নয়নমূলক কাজের অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, পরিবেশের ক্ষতির বিনিময়ে কোনও শিল্প বা বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, আরাবল্লী শুধুমাত্র একটি পর্বতশ্রেণি নয়, এটি উত্তর-পশ্চিম ভারতের পরিবেশগত সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে। মরুকরণের অগ্রগতি রোধ, ভূগর্ভস্থ জলস্তর রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই পর্বতমালার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এর সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলিকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আদালত পরিবেশ মন্ত্রক, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে আরাবল্লী সংরক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করা যায়। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, খনি লিজধারীদের স্বার্থের চেয়ে পরিবেশ রক্ষাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
পরিবেশবিদদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আরাবল্লী রক্ষার লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বহু বছর ধরে অবৈধ খনন, বন উজাড় ও নির্মাণচাপের ফলে আরাবল্লীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। আদালতের হস্তক্ষেপে সেই ধ্বংসযজ্ঞে অন্তত সাময়িক রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নির্দেশের ফলে আরাবল্লী অঞ্চলে ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্প, খনি ব্যবসা ও জমি ব্যবহার নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিচারব্যবস্থায়ও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।