ওঙ্কার ডেস্ক: তরুণী সহকর্মীকে ২০১৩ সালে ধর্ষণের ঘটনায় প্রবীণ সাংবাদিক তথা তেহেলকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে আগেই দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার প্রবীণ সাংবাদিককে বম্বে হাইকোর্ট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় ‘তেহেলকা থিংকফেস্ট’ চলাকালীন একটি হোটেলের লিফটে ওই তরুণীকে যৌন নিগ্রহ করা হয় বলে তেজপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এর আগে গোয়ার একটি নিম্ন আদালত তাঁকে এই মামলায় বেকসুর খালাস দিয়েছিল, কিন্তু হাইকোর্ট সেই রায় খারিজ করে দেয়।
সাজা ঘোষণার আগে শুনানির সময় তেজপাল তাঁর বয়স ও পারিবারিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন, তিনি আদালতের কাছে নরম মনোভাব দেখানোর আর্জি জানান। বিচারপতিকে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী আছেন। আমার বয়স ৬২ বছর।’ অনুরোধ করেন, যেন সাজার পরিমাণ নির্ধারণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হয়। এদিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতের বাইরে এসে তেজপাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এটি একটি ভুল মামলা। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব এবং বিচারব্যবস্থার ওপর আমার আস্থা রয়েছে।’ নিজের পক্ষে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে দাবি করে তেজপাল বলেন, ‘এত বেশি প্রমাণ রয়েছে যে আমি ১০ বার বেকসুর খালাস পেতে পারি।’
এদিন রাজ্য সরকারের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তেজপালের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী আবদ পন্ডা। ২০১৭ সালে মাপুসার ট্রায়াল কোর্টে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ২০২১ সালে তেজপালকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এরপর রাজ্য সরকার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ট্রায়াল কোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে। এবার হাইকোর্ট সাজা ঘোষণা করল।