ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের অন্যতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বদল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এই মর্মে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে চলেছে মোদী সরকার। ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল এনে চণ্ডীগড়কে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০-এর অন্তর্ভুক্ত করতে চায় কেন্দ্র। যার ফলে দেশের রাষ্ট্রপতি চণ্ডীগড়ের জন্য নিয়ম তৈরির ক্ষমতা পাবেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস ও অকালি দল।
উল্লেখ্য, বর্তমানে চণ্ডীগড় পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও, এই শহর হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের রাজধানী। এই মুহূর্তে পাঞ্জাবের রাজ্যপাল চণ্ডীগড়ের প্রশাসক। কিন্তু কেন্দ্র সরকার চাইছে চণ্ডীগড়কে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০-এর অন্তর্ভুক্ত করতে। এটি হলে দাদরা ও নগর হাভেলি, লাক্ষাদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দমন ও দিউ এবং পুদুচেরির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে যে ভাবে প্রশাসনিক কাজকর্ম চলে, তেমন প্রশাসন কার্যকর হবে চণ্ডীগড়ে। ২৪০ অনুচ্ছেদে চণ্ডীগড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দেশের রাষ্ট্রপতি শান্তি, অগ্রগতি এবং সুশাসনের জন্য বিধিমালা তৈরি করতে পারবেন এই অঞ্চলের জন্য। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লাক্ষাদ্বীপ, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ এবং পুদুচেরির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে বিধিমালা প্রণয়নের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দিয়েছে সংবিধান।
উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের একাধিক রাজনৈতিক দল চণ্ডীগড়কে পাঞ্জাবের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। তাদের দাবি, হরিয়ানাকে পৃথক রাজধানী দেওয়া হোক। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান। তিনি বলেন, ‘চণ্ডীগড় তৈরির জন্য ধ্বংস করা হয়েছিল আমাদের গ্রামগুলি। পাঞ্জাবেরই অধিকার রয়েছে এর উপর। আমরা হাল ছাড়ব না এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।’ আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, পাঞ্জাবিরা কখনও স্বৈরাচারীর কাছে মাথা নত করেনি। এবারও করবে না।’
