ওঙ্কার ডেস্ক: দীপাবলির পর টানা দ্বিতীয় দিনও বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে রইল রাজধানী দিল্লি। বুধাবার সকালেও শহরের বাতাসে শ্বাস নেওয়া প্রায় দুঃসহ। সকাল সাতটার সময় দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল প্রায় ৩৪৫, যা ‘খুবই খারাপ’ শ্রেণির মধ্যে পড়ে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৩৮টি মনিটরিং স্টেশনের মধ্যে ৩৪টিতেই দূষণের মাত্রা ‘রেড জোনে’। পাঞ্জাবি বাগ ও ওয়াজিরপুরের মতো এলাকায় পিএমআর -এর ঘনত্ব ৪০০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারেরও বেশি ছাড়িয়েছে।
এর আগের দিন ভোরে দিল্লির দূষণ সূচক ছুঁয়েছিল ৪৫১, যা ‘সিভিয়ার’ বা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ স্তর হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ দীপাবলির পর টানা দুই দিন ধরেই রাজধানীর বাতাসে রয়েছে বিষাক্ত কুয়াশার চাদর। ফলে সকালবেলা দৃশ্যমানতা কমে গিয়েছে, রাস্তায় চলাফেরাও হয়েছে কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বয়স্ক নাগরিক, শিশু এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষজন।
দূষণের কারণ হিসেবে পরিবেশবিদরা চিহ্নিত করেছেন তিনটি বড় কারণ, দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো, স্থানীয় গাড়ির ধোঁয়া ও আবহাওয়াগত কারণ। যদিও পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষিক্ষেত্রে খড় পোড়ানোর ঘটনা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৭.৫ শতাংশ কমেছে, তবুও বাতাসে দূষণ কমেনি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাতাসের গতি কমে যাওয়া ও নিম্নস্তরে দূষিত কণার আটকে পড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দীপাবলির আগেই সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লি সরকার বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে বহু এলাকায় রাতভর বাজি পোড়ানো হয় বলে অভিযোগ। ফলে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণে ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস মিশে যায়, যা এখন শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে যতটা সম্ভব ঘরের বাইরে কম বেরোতে হবে, বিশেষত সকাল ও সন্ধ্যাবেলায়। বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি বাড়িতে জানলা-দরজা বন্ধ রাখা ও এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীপাবলির উৎসব শেষ হলেও দিল্লিবাসীর জন্য বিপদের ঘণ্টা বেজে চলেছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে পরিবেশকর্মী সকলেই এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন, কবে নাগাদ দূষণ মুক্ত হবে দেশের রাজধানীর আকাশ?
