ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ৯৭টি দেশীয় হালকা যুদ্ধবিমান এলসিএ তেজস মার্ক–১এ কেনার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মঙ্গলবারই এই প্রকল্পের চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলেছে। এই যুদ্ধবিমান তৈরি করবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড। কয়েক বছর আগে ৮৩টি তেজস কেনার জন্য প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার অর্ডার দিয়েছিল সরকার। এবার আরও ৯৭টি যুদ্ধবিমানের অনুমোদন মেলায় ভারতের বায়ুসেনার শক্তি আরও বহুগুণ বাড়বে।
ভারতীয় বায়ুসেনা খুব শীঘ্রই পুরনো মিগ–২১ যুদ্ধবিমানকে বিদায় জানাতে চলেছে। সেই জায়গা নেবে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ তেজস মার্ক–১এ। এতে থাকবে অত্যাধুনিক র্যা ডার ও অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম, দেশীয় উপকরণের ব্যবহার হবে প্রায় ৬৫ শতাংশেরও বেশি। সরকারের দাবি, এর ফলে শুধু প্রতিরক্ষা খাতই নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পও বিপুল ব্যবসার সুযোগ পাবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠছে ভারত কি আসন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য তৈরি হচ্ছে? বিশেষত পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বিশাল সংখ্যক যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশ, পাক ড্রোন হানা, এমনকি গিলগিট–বালতিস্তান ও পিওকে-তে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোয় দিল্লি যে আকাশপথে শক্তি বাড়াতে চাইছে, তা স্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, মিগ–২১-এর অবসান ঘটিয়ে আধুনিক দেশীয় যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি ভারতকে পাকিস্তানের তুলনায় প্রযুক্তিগত ও সামরিকভাবে অনেকটা এগিয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বায়ুসেনা এখনও মূলত চিনা জেএফ ১৭ ও আমেরিকান এফ–১৬ যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে ভারত ভবিষ্যতে আরও ২০০–র বেশি তেজস মার্ক–২ এবং সমসংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের উন্নত মাঝারি যুদ্ধবিমান তৈরির অর্ডার দিতে চলেছে। এতে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি বহুগুণে বাড়বে। অতএব প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে শুধু ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ র অগ্রগতি নাকি পাকিস্তানকে সামনে রেখেই যুদ্ধ প্রস্তুতির সিগন্যাল দিচ্ছে নয়া দিল্লি?
