ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের নির্বাচনী সাফল্যের পর নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে এনডিএ-র সাংসদদের জন্য বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই আয়োজনের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল খাবারের মেনু। সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোজ হলেও রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্য এবং আঞ্চলিক স্বাদে মুগ্ধ হয়েছেন উপস্থিত অতিথিরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নির্বাচিত স্বাদকে একত্রিত করে যেন ভারতের বহুত্ববাদকেই তুলে ধরা হয়েছে এই ডিনারে।
সুত্রের খবর অনুযায়ী, সন্ধ্যার শুরুতেই অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল আদা-মেশানো কমলালেবুর রস এবং ডালিমের রস, এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় সুগন্ধি সবজি-বদাম শোরবা। এরপর টেবিলে আসে কাকুম মটর আখরোট শামি, যেখানে নাচিনি, মটর ও আখরোটের অনন্য খাবার। মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় কথাম্বির বড়া-ও পরিবেশিত হয়। মূল খাবারের পর্বে বৈচিত্র্য ছিল আরও চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণ ভারতের টক-মশলাদার গঙ্গগুরা পনীর বিশেষভাবে অতিথিদের মন জয় করে। খাওয়ার সঙ্গে থাকে খুবানি মালাই কোফতা, যেখানে এপ্রিকটের মিষ্টতা আর মালাইয ছিলে পদে। গাজর-মেথি-মটরের ভাজা এবং ভিন্ধির সাম্ভারিয়ার মত পদও ছিল চখে পরার মত। অন্ধ্রার পালাকুরা পাপ্পু খাওয়াকে এবং সুগন্ধি কালো মটর-চিলগোজা পুলাউ এলাহি অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ করে।
খাবারের সঙ্গে রুটি, মিসসি রুটি, নান এবং লাচ্ছা পরাঠা একাধিক ভারতীয় রুটিও পরিবেশিত হয়, যাতে প্রত্যেকে নিজের পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন। ডিনারের শেষ অংশে ছিল মিষ্টির সমারোহ। বেকড পেস্তা লঙ্গচা তার নিজস্ব সমৃদ্ধ স্বাদ দিয়ে অতিথিদের মন কেড়ে নেয়। কেরলের ঐতিহ্যবাহী আডা প্রধামান আবার নারকেল দুধ, গুড় এবং শুকনো ফলে ছিল অথিতিদের জন্য। তাজা ফল পরিবেশনের পর পুরো আয়োজনের শেষে ছিল সুগন্ধি কাশ্মীরি কাহওয়া।
মোদি-নেতৃত্বাধীন এই বিশেষ নৈশভোজ যেন কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ভারতের বহুমাত্রিক রন্ধনসংস্কৃতির মহোৎসব ছিল। আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে সামনে এনে যে ভাবে খাবারের মাধ্যমে দেশের ঐক্য ও সমৃদ্ধিকে তুলে ধরা হয়েছে, তা রাজনৈতিক ভোজের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে সাংস্কৃতিক উদ্যাপনের স্তরে।
