ওঙ্কার ডেস্ক: নেপালে হড়পা বানের পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের খোঁজ মিলছে না বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তবে উদ্ধারকাজেও যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। হড়পা বানের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় জমেছে বিপুল কাদামাটি। কাদার স্তূপ সরিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য বুধবার সকাল থেকেই আচমকা জল বাড়তে শুরু করে ভোটেকোশী নদীতে। এরপর চিন সীমান্তবর্তী নেপালের রসুয়া জেলায় নেমে আসে ভয়াবহ হড়পা বান।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে রসুয়া জেলা। ওই জেলার উপর দিয়েই বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। জলের সঙ্গে নেমে আসে কাদামাটির স্রোতও। একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়। মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা কাদার নিচে চাপা পড়েছে বলে খবর।
ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনও ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে অন্তত দেড় হাজার মানুষের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। নেপাল সেনার ৪৪ জন সদস্যের খোঁজ মিলছে না। সেই সঙ্গে পুলিশের ২৮ জন এবং সশস্ত্র পুলিশের ১৩ জন সদস্যও নিখোঁজ।