ওঙ্কার ডেস্ক: এলগিন রোডের এক বাড়ির নির্জন ঘরে, পর্দার আড়ালে ছিলেন নেতাজী। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের নজর ছিল তীক্ষ্ম। কিন্তু সেই নজর এড়িয়ে পালিয়েছিলেন নেতাজী। ইতিহাসে যা পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘নেতাজির গ্রেট এস্কেপ’ নামে।
১৯৪১ সালের ১৭ জানুয়ারি, রাত ১টা ৩০ মিনিটে, নিজের ৪৪তম জন্মদিনের ঠিক আগে, ভ্রাতুষ্পুত্র শিশিরকুমার বসুর সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন নেতাজি। শিশির তাঁকে জার্মান ওয়ান্ডারার গাড়িতে করে নিয়ে যান আজকের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত একটি ছোট রেলস্টেশন। নেতাজি নিজে এই যাত্রাকে বলেছিলেন, “নতুন ভারত গঠনের পথে অগ্রযাত্রা , পালানো নয়।” দেশদ্রোহের মামলা চলাকালীন এমন একজন জাতীয় নেতার হাতছাড়া হওয়া ব্রিটিশদের কাছে অপমানের।
নেতাজি যে ট্রেনে উঠেছিলেন, সেটি ছিল ভারতের প্রথম মেল/এক্সপ্রেস ট্রেন ১ আপ হাওড়া–দিল্লি ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে মেল। সেই ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন এক ‘মহম্মদ জিয়াউদ্দিন’। কেউ বুঝতেই পারেনি, এই মানুষটিই আসলে নেতাজি। এই যাত্রাই ছিল আরও বড় এক আন্তর্জাতিক অভিযানের শুরু।
শুরুতে এই ট্রেন চলত হাওড়া থেকে দিল্লি। পরে কালকা রেলপথে যুক্ত হওয়ায় নাম হয় কালকা মেল। একসময় ব্রিটিশ শাসকেরা কলকাতা থেকে শিমলা গ্রীষ্মকালীন রাজধানীতে যেতে এই ট্রেনেই যাতায়াত করতেন। ২০২১ সালে, নেতাজির ১২৫-তম জন্মবার্ষিকীতে, এই ট্রেনের নাম বদলে রাখা হয় নেতাজি এক্সপ্রেস। আগামী এপ্রিল মাসে, এই কালকা মেল পূর্ণ করবে টানা ১৬০ বছর। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নেতাজী জন্মজয়ন্তী। দেশের কোনায় কোনায় পালিত হচ্ছে দেশপ্রেম দিবস।
