ওঙ্কার ডেস্ক : ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে কয়েকজ ছাত্রী এফআইআর করেছিল ৫২ বছর বয়সি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে। ওড়িশা থেকে আসা ওই ব্যক্তির আসল নাম পার্থসারথি। ছাত্রীদের অভিযোগ, পার্থসারথি ওরফে স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী তাদের হয়রানি, বলপ্রয়োগ এবং ভয় দেখায়। এরপর নচড়ে বসে দিল্লি পুলিশ। নয়াদিল্লির একটি বিশিষ্ট শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। রাজধানীর বসন্ত কুঞ্জ এলাকার ওই স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক নেতা এবং শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে এরপর নতুন নতুন নতুন নতুন তথ্য উঠে আসে।
ওই আশ্রমের কর্তাব্যক্তিরা এহেন সন্ন্যাসীর অস্বাভাবিক চরিত্র স্বীকার করেছেন। তদন্তের সময় উদ্ধার করা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাগুলি থেকে জানা গেছে যে তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের “বেবি,” “আমি তোমাকে ভালোবাসি”, এবং তাদের চেহারা সম্পর্কে মন্তব্য, যার মধ্যে চুল এবং পোশাক সম্পর্কে প্রশংসা সূচক মেসেজ মিলেছে। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভর্তির পরপরই একজন ছাত্রী কীভাবে এই অগ্নিপরীক্ষার শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রথম ব্যক্তি তাকে সেই বছরের দীপাবলির আগে ডেকে পাঠান। এবং অস্বস্তিকর আচরণ করেন।
গত ডিসেম্বরে এক ছাত্রী হোস্টেলে পড়ে যাওয়ার পর চৈতন্যানন্দ সরস্বতী তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে এক্স-রে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে, এই ঘটনার পর থেকেই ইংগিতপূর্ণ ও বলপ্রোয়েগের মেসেজ আসা শুরু হয়। ছাত্রীটি তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তাকে নিয়মিতভাবে অযাচিত এবং ব্যক্তিগত মন্তব্য পাঠানো হত, যার মধ্যে ছিল: “তুমি আজ সুন্দর দেখাচ্ছ”, “আমি তোমাকে ভালোবাসি” ইত্যাদি। সাড়া না দিলে পরীক্ষায় তার নম্বর কমানোর এবং অফিসিয়াল নোটিশ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে একটি নতুন বিএমডব্লিউ গাড়ির জন্য একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অজুহাতে তিনি ওই ছাত্রীকে তাঁর কোয়ার্টারে ডেকে পাঠান বলে অভিযোগ। সেই রাতে, তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার জন্য আরও মেসেজ করেন বলে এফ আই আর-এ জানানো হয়েছে। এফআইআরে শ্বেতা, ভাবনা এবং কাজল নামে তিন মহিলা কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অভিযোগকারীকে এইসব প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এফআইআর অনুসারে, হোলি উদযাপনের সময় ছাত্রীদের গায়ে জোর করে রঙ দিয়েছিলেন চৈতন্যানন্দ সরস্বতী। এরপর এক ছাত্রীকে তাঁর অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যেখানে তিনি জোর করে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। আরও অভিযোগ, ২০২৫ সালের জুনে ঋষিকেশ ভ্রমণে গিয়ে কয়েকজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যারা তার প্রতিরোধ করেছিল তাদের পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বা তাদের নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারীদের মতে, প্রায় ৫০ জন মহিলা ছাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ফোন রেকর্ড থেকে জানা যায় যে ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে হয়রানি এবং ভয় দেখানো হয়েছে। চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ এই প্রথমবার নয়, পুলিশের রেকর্ড থেকে দেখা যায় যে তিনি ২০০৯ এবং ২০১৬ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল। মামলা এড়াতে তিনি তাঁর প্রভাব এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিলেন।
এবার আগস্টের শুরুতে ১৭ জন মহিলা যৌথভাবে ডিফেন্স কলোনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই সময় চৈতন্যানন্দ সরস্বতী লন্ডনে ছিলেন বলে প্রচার করা হয়েছিল যদিও পরে তাঁকে আগ্রায় পাওয়া যায়। তিনি প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং রাজস্থান জুড়ে অভিযান চালায় দিল্লি পুলিশ। তিনি যাতে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে না পারেন তার জন্য লুকআউট সার্কুলার জারি করা হয়। যদিও এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি।
