নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগানের মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। ঘটনার সময় মাইকে ঘোষণার দায়িত্বে থাকা দুই ধৃত সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু ও কুশল মজুমদারের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তদন্তকারী দল।
পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার আগে মাইকে যে ঘোষণা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে ধৃতদের গলা মিলছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই ঘটনার সময়ের একাধিক সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও ফুটেজ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে মাইকে নির্দেশমূলক ঘোষণা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। সেই অডিও ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে ধৃতদের ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলিয়ে দেখা হবে।
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। জানা গেছে, মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথে বেশ কয়েকটি স্টল বসানো হয়েছিল, যার কোনও অনুমতি ছিল না। কারা সেই স্টল বসানোর অনুমতি দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মণ্ডপে প্রবেশের পথ অনেকটাই ফাঁকা রাখা হয়েছিল। চোরবাগান সর্বজনীনের থিম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে বাইরের শব্দ ভিতরে শোনা যেত না। তাই যে ঘোষণাকে ভুয়ো বলা হচ্ছে, তা বাইরে থাকা দর্শনার্থীদের জন্য করা হয়েছিল। তাহলে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার ঘোষণা কেন করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা। ঘোষণার সময়ের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের সময় মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নস্যাৎ করছে লালবাজার। পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় ১৫০ জনের মতো পুলিশ, হোমগার্ড, পুজো ভলান্টিয়ার এবং বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী সেখানে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন অস্থায়ী হোমগার্ড ছিলেন, দায়িত্বে ছিলেন এক ইন্সপেক্টর। ভিড় বাড়তে থাকায় পরে দু’জন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আইপিএস অফিসারকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, কয়েক জন হোমগার্ড দড়ি দিয়ে গার্ডরেল করছিলেন, যা ভিড়ের চাপে পড়ে যায়। হোমগার্ডদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই তৃণমূল আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত যে ফুটেজ দেখা হয়েছে, তাতে কোনও পুলিশকর্মীর দড়ি ছেড়ে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি। বরং ভিতরে থাকা পুলিশকর্মীরা দর্শনার্থীদের বেরোনোর পথে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এখনও পর্যন্ত ৬০-৭০ জনের বয়ান নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আহতরাও রয়েছেন। ধৃত সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু, যিনি কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন, তাঁকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর ধৃত কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুজোর আগে কমিটির তরফে কী বন্দোবস্ত করা হবে, তা লিখিতভাবে কলকাতা পুলিশকে জানাতে হয় এবং পোর্টালে আপলোড করতে হয়। তারপর অনুমতি মেলে। সেই আবেদনপত্রের সঙ্গে বাস্তব ব্যবস্থার কতটা মিল ছিল, তা খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে অনুমতিপত্র চাওয়া হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গেছে।