ওঙ্কার ডেস্ক: ২০১৭ সালে ইয়েমেনে খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়া। দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াই, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আর ১৩ বছরের এক কিশোরীর আবেগঘন আর্তির কাছে অবশেষে নতিস্বীকার করল ইয়েমেন। ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ারের দফতর জানিয়েছে, ইয়েমেন সরকার নিমিশার মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিল করেছে।
নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড এর আগে একাধিকবার স্থগিত হলেও, এবার সানায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সেটিকে স্থায়ীভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি লিখিত ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি, তবুও গ্র্যান্ড মুফতির দফতরের বিবৃতি বলছে, “নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড, যা পূর্বে স্থগিত ছিল, তা এখন সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে”।
উল্লেখ্য, ৩৮ বছর বয়সি নিমিশা, কেরলের পালক্কাড জেলার বাসিন্দা। ২০০৮ সালে জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন ইয়েমেনে। পেশায় নার্স, সেখানেই কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় স্থানীয় নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির সঙ্গে। প্রথমে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, পরে মাহদি তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। এমনকি তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে দেশে ফেরার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেন। অভিযোগ, মাহদি মিথ্যা দাবি করে বসেন যে তিনি নিমিশার স্বামী, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।অভিযোগ, ২০১৭ সালে নিজের নথিপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে মাহদিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন নিমিশা। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ খাওয়ানোর ফলে মাহদির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার জেরে নিমিশাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৮ সালে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ২০২০ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে ইয়েমেন সরকার।
২০২৪ সালের শেষে ও ২০২৫ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি এবং হুথি নেতা মাহদি আল-মাশাত সেই মৃত্যুদণ্ডে স্বাক্ষর করে দেন। একপ্রকার নিশ্চিত ছিল, নিমিশা আর ফিরবেন না। একদিকে কূটনৈতিক স্তরে বিদেশমন্ত্রকের নীরব কিন্তু তৎপর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে ধর্মীয় স্তরে গ্র্যান্ড মুফতির আবেগঘন আবেদন সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অভিনব চাপ।
এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ছিল নিমিশার মেয়ে মিশেলের আবেদন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে, দশ বছর ধরে মাকে চোখে না দেখা সেই কিশোরী পাড়ি দেয় ইয়েমেন। তাঁর করুণ আকুতি “আই লাভ মাই মাম্মি, দয়া করে আমার মাকে ফিরিয়ে দিন” গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নাড়া দেয়। যদিও এখনও ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে আশা করা যায়, কাগজে-কলমে চূড়ান্ত ঘোষণাও খুব শিগগিরই সামনে আসবে।
