ওঙ্কার ডেস্ক : কেরালায় নার্স নিশিমা প্রিয়ার প্রাণ রক্ষায় শেষ মুহূর্তের ভীষন তৎপরতা শুরু হয়েছে দেশে। ইয়েমেনে খুনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিশিমার ফাঁসি ঠেকাতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের করণীয় ঠিক করতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। নিশিমার পরিবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আর্জি জানিয়েছে, ভারত সরকার যেন কূটনৈতিক স্তরে ইয়েমেন সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁর প্রাণভিক্ষা নিশ্চিত করে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন তিনি যেন সরাসরি ইয়েমেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন। তিরুবনন্তপুরমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং হস্তক্ষেপ করলে নিশিমা প্রিয়া বেঁচে যেতে পারেন।” একইভাবে কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কেভি থমাসও প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিশিমার প্রাণ বাঁচাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আবেদন জানিয়েছেন।
কেরালায় পালাক্কাদের বাসিন্দা ৩৯ বছরের নিশিমা প্রিয়া নার্সের চাকরিতে ইয়েমেন গিয়েছিলেন। পরে সেখানেই নিজস্ব চিকিৎসা কেন্দ্র খুলে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকে ২০১৭ সালে ইয়েমেনি ব্যবসায়ী অংশীদারকে খুন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পালিয়ে আসার চেষ্টা করতেই ইয়েমেনি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ইয়েমেনের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন নিশিমা, কিন্তু দেশটির প্রেসিডেন্টও সেই আবেদন খারিজ করে দেন।
এদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইয়েমেন প্রশাসনের সঙ্গে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। আদালতের রায় অনুযায়ী নিশিমার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা এই ১৬ জুলাই, বুধবার। এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও কূটনৈতিক তৎপরতাই নিশিমা প্রিয়ার পরিবারের কাছে শেষ আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
